অর্থনীতিJun 11, 20264 min read

গত তিন বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির দ্রুততম হারে ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি এই মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি'।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক ৪.২ শতাংশে পৌঁছেছে, গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন:
গত তিন বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির দ্রুততম হারে ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি এই মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি'।

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের তুলনায় ৪.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিলের ৩.৮ শতাংশের তুলনায় বেশি। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি”। তার এই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি মূলত প্রত্যাশার তুলনায় কম মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং এটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করেন। ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে যাবে এবং অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি খাতে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানি ব্যয় এক বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। অটোমোবাইল সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য ৪.১৫ ডলার, যেখানে কয়েক মাস আগে তা ২.৯৮ ডলারের কাছাকাছি ছিল। এই বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে, যাতে বাজারে ভোক্তা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমান তথ্য সুদের হার বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়, আবার অনেকে মনে করছেন শক্তিশালী কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির সমন্বয়ে নীতি কঠোর করা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।

রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মূল্যস্ফীতি কমানোকে প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তার অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিরোধী দলীয় নেতারা তাকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে অসংবেদনশীল বলে সমালোচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এতে করে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেই মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।