কোভিড–১৯ মহামারির উৎপত্তি নিয়ে বহু বছর ধরে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের প্রকাশিত নথি ও বক্তব্য। তার দাবি অনুযায়ী, চীনের উহান ভাইরাস গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত কিছু গবেষণা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নের সংযোগ ছিল এবং এসব কার্যক্রমের একটি অংশ তথাকথিত “গেইন–অব–ফাংশন” ধরনের গবেষণার আওতায় পড়তে পারে। এই গবেষণায় ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা, অভিযোজন বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিবর্তন করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি মূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়।
সমর্থকদের মতে, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ; তবে সমালোচকদের দৃষ্টিতে এটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং কঠোর নজরদারির দাবি রাখে। গ্যাবার্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কিছু প্রকল্পের তথ্য এবং উহানের গবেষণার প্রকৃত পরিধি নিয়ে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না এবং কোভিড–১৯–এর উৎস অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে এই অভিযোগ এখনো স্বাধীন তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে সাবেক প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচি ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তার তত্ত্বাবধানে থাকা সংস্থাগুলো সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী নিষিদ্ধ গবেষণায় অর্থায়ন করেনি এবং কোভিড–১৯–এর উৎপত্তি সম্পর্কে এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে এ বিষয়ে মূলত ২টি প্রধান তত্ত্ব আলোচনায় রয়েছে। প্রথমটি প্রাকৃতিক সংক্রমণ তত্ত্ব, যেখানে ধারণা করা হয় কোনো প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয়টি গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত ভাইরাস বাইরে চলে আসার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তত্ত্ব। এখনো আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও গোয়েন্দা মহলে এ বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে উত্থাপিত এই অভিযোগ শুধু জনস্বাস্থ্য বা গবেষণা নীতির প্রশ্ন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক, বৈজ্ঞানিক জবাবদিহি এবং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
