চট্টগ্রাম, ২১ জুন ২০২৬: বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) যুক্ত হয়েছে চীন থেকে আমদানি করা ৪টি অত্যাধুনিক কনটেইনার পরিচালনা ক্রেন। প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে সংগ্রহ করা এই নতুন সরঞ্জামকে দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংযোজন শুধু বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রেনগুলো চালু হলে কনটেইনার ওঠানো–নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বড় আকারের কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস ও লোডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজের অপেক্ষা, পণ্যজট এবং ধীরগতির কার্যক্রম বন্দরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ক্রেন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজের অবস্থানকাল কমে আসবে, ফলে জাহাজ দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারবে এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথনির্ভর এবং এর সবচেয়ে বড় অংশ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ফলে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি সরাসরি আমদানি, রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ৪টি ক্রেন সংযোজনের ফলে পণ্য পরিবহনে সময় কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা আরও কার্যকর সেবা পাবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে দেশের অন্যতম আধুনিক টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার পরিচালনা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার বর্তমান সময়ে উন্নত বন্দর অবকাঠামো গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন। এই ৪টি অত্যাধুনিক ক্রেন শুধু বর্তমান চাহিদা পূরণ করবে না, ভবিষ্যতের বাড়তি বাণিজ্য প্রবাহ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
