অর্থনীতিJun 21, 20264 min read

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

শেয়ার করুন:
পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রাম, ২১ জুন ২০২৬: বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) যুক্ত হয়েছে চীন থেকে আমদানি করা ৪টি অত্যাধুনিক কনটেইনার পরিচালনা ক্রেন। প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে সংগ্রহ করা এই নতুন সরঞ্জামকে দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংযোজন শুধু বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রেনগুলো চালু হলে কনটেইনার ওঠানো–নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বড় আকারের কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস ও লোডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজের অপেক্ষা, পণ্যজট এবং ধীরগতির কার্যক্রম বন্দরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ক্রেন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজের অবস্থানকাল কমে আসবে, ফলে জাহাজ দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারবে এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথনির্ভর এবং এর সবচেয়ে বড় অংশ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ফলে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি সরাসরি আমদানি, রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ৪টি ক্রেন সংযোজনের ফলে পণ্য পরিবহনে সময় কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা আরও কার্যকর সেবা পাবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে দেশের অন্যতম আধুনিক টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার পরিচালনা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার বর্তমান সময়ে উন্নত বন্দর অবকাঠামো গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন। এই ৪টি অত্যাধুনিক ক্রেন শুধু বর্তমান চাহিদা পূরণ করবে না, ভবিষ্যতের বাড়তি বাণিজ্য প্রবাহ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।