ভারতের উত্তরপ্রদেশে একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের খারখোদা পুলিশ স্টেশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘থানে ওয়ালি মসজিদ’কে ঘিরে প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সামনে এসেছে। এই বিরোধের অংশ হিসেবে মসজিদটি অপসারণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ দিনের নোটিশ জারি করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মসজিদটি পুলিশ স্টেশনের জমির ওপর নির্মিত। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ কুমারের বক্তব্যে বলা হয়েছে, স্থাপনাটি বহু বছরের পুরোনো হলেও সাম্প্রতিক রাজস্ব বিভাগের এক প্রতিবেদনে জমিটি থানা কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ১৩ জুন মসজিদের ইমাম আব্দুল গাফফারের কাছে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয় এবং সেখানে ৭ দিনের মধ্যে স্থাপনাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের এই অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, মসজিদটি বৈধভাবে ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে। মসজিদের ইমাম আব্দুল গাফফার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট জমি ১৯৮৫ সালেই ওয়াকফ বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের মতে, মসজিদ অপসারণের দাবি বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি শুধু একটি স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং জমির মালিকানা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নথিভিত্তিক আইনি অবস্থানের প্রশ্নও সামনে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে বিষয়টি আদালত বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার দিকে যেতে পারে। বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় ঐতিহাসিক এই মসজিদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত নথিপত্র, প্রশাসনিক মূল্যায়ন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিরোধের সমাধান নির্ধারিত হতে পারে।
