রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় অতিক্রম করার পর এবার ইউক্রেন সেনাবাহিনীতে বিদেশি নাগরিক বা ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রতিরক্ষা খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর পদাতিক ইউনিটের প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি যোদ্ধাদের মাধ্যমে পূরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্রন্টলাইনে থাকা ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধরত ইউক্রেনীয় সৈন্যদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে যেসব সৈন্য দীর্ঘ সময় ধরে সম্মুখসারিতে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের ধাপে ধাপে অব্যাহতি দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে। এই ব্যবস্থাকে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ সৈন্যদের শারীরিক ও মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক সামরিক কার্যকারিতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফেদোরভ এই উদ্যোগকে বৃহত্তর সামরিক সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী পর্যায়ে নিয়োগ ও মবিলাইজেশন ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনা হবে, যাতে বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করা যায়।
কিয়েভের ধারণা, এই সংস্কার ভবিষ্যতে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ইউক্রেনের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ নীতির কারণে ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের জনবল সংকট এবং সামাজিক চাপ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই পরিকল্পনাকে অনেকেই রাশিয়ার পূর্ববর্তী মডেলের সঙ্গে তুলনা করছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অন্তত ২৮ হাজার বিদেশি নাগরিককে সামরিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার কয়েক হাজার সেনাও রুশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিচ্ছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বিদেশি যোদ্ধা নির্ভরতা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই উভয় পক্ষের জন্য প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে রোটেশন ব্যবস্থা, বিদেশি নিয়োগ এবং সৈন্যদের ধাপে ধাপে অব্যাহতি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ এখন সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে ইউক্রেনের এই পরিকল্পনা কেবল সামরিক কৌশলগত পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জনবল সংকট, ক্লান্তি এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পরিচালনার নতুন বাস্তবতার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
