ইউক্রেনে মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত কিছু ল্যাবরেটরি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও দাবি সামনে এনেছেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ল্যারি জনসন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ল্যাবগুলোতে অ্যানথ্রাক্স, প্লেগ, টুলারেমিয়া, মারবার্গ ও ইবোলা ধরনের মারাত্মক রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ে গবেষণা চলছিল, যা নির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্যের লক্ষ্যবস্তু তৈরি করে সম্ভাব্য জৈব অস্ত্র উন্নয়নের প্রচেষ্টা হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এসব গবেষণা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে একটি গোপন সামরিক-জৈবিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছিল, যা ভবিষ্যতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য প্যাথোজেন নিয়ে কাজ করতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও কিছু প্রকাশিত নথির ভিত্তিতে তিনি দাবি করেন যে মেটাবায়োটা, ব্ল্যাক অ্যান্ড ভিচ এবং সিএইচটু হিলের মতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত এসব ল্যাব মার্কিন সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে এবং এর একটি নির্দিষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল। তাঁর মতে, এই কার্যক্রমের লক্ষ্য হতে পারে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য জৈবিক সক্ষমতা তৈরি করা। তিনি এটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচালিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেন।
এই সাবেক কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এসব গবেষণা নিয়ে সতর্কতা জানানো হলেও পশ্চিমা দেশসমূহ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা ভুল তথ্য হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর মতে, এসব আন্তর্জাতিক সংস্থার অবস্থান বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার উচিত এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো, কারণ তাঁর ভাষায় এটি একটি চলমান সংঘাতের অংশ।
তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে তিনি এটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।
তবে উল্লেখযোগ্য যে এসব দাবি মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও কিছু পক্ষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মতপার্থক্য ও বিতর্ক বিদ্যমান।
