বিশ্ব যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি সচল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা প্রায় ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী থানি আল জেয়ুদি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খোলা থাকুক বা না থাকুক, বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক সংঘাত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাদের জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তা নতুনভাবে মূল্যায়নে উৎসাহিত করেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে সামরিক হামলার পর হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বের প্রায় ১/৫ অংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর ব্যাঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবহার করে পূর্ব উপকূলীয় বন্দরগুলোর মাধ্যমে কিছু অপরিশোধিত তেল পরিবহন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
দেশটির নতুন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওমান উপসাগরসংলগ্ন দিব্বা, ফুজাইরাহ ও খোর ফাক্কান বন্দরের ব্যাপক সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে নতুন বন্দর নির্মাণ, অতিরিক্ত তেল পরিবহন পাইপলাইন স্থাপন এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে ফুজাইরাহ হয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় পাইপলাইন দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি তৃতীয় পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তুতিও বিবেচনায় রয়েছে। এর সঙ্গে পেট্রোরসায়ন, তরলীকৃত গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থাও উন্নয়ন করা হবে।
তবে এই রূপান্তর সহজ নয়। বর্তমানে দেশটি আমদানি ও পুনর্বিতরণে উপসাগরীয় বন্দরগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর থেকে প্রধান নগরীগুলোতে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বেশি হতে পারে। তবুও বৃহৎ রেল সম্প্রসারণ ও উন্নত সংযোগ অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত শুধু একটি বিকল্প জ্বালানি ও বাণিজ্য পথই গড়ে তুলবে না, বরং আঞ্চলিক সরবরাহ, পরিবহন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন কৌশলগত অবস্থানও তৈরি করবে।
