মস্কোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতে দূরপাল্লার আঘাত সক্ষমতার নতুন মাত্রা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক ড্রোন একই সময়ে একই লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৬টি ইউক্রেনীয় ‘সিচেন’ আত্মঘাতী ড্রোন ঝাঁক আকারে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলাকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিচালিত দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে বহু ড্রোন ব্যবহার করার এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর একসঙ্গে চাপ সৃষ্টি করা এবং লক্ষ্যবস্তুর দিকে অন্তত কিছু আক্রমণ সক্ষমতা পৌঁছে দেওয়া। এই ধরনের সমন্বিত আক্রমণ পদ্ধতিতে বিভিন্ন উচ্চতা, গতি ও প্রবেশপথ ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। ফলে প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং নির্ধারিত অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
‘সিচেন’ ড্রোন প্রথমবার ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে উন্মোচিত হয়। এটি ইউক্রেনের নিজস্বভাবে তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার একমুখী আক্রমণ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি ড্রোন হিসেবে পরিচিত। উন্মুক্ত তথ্য অনুযায়ী, এর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, বহনক্ষম বিস্ফোরক অংশ ৪০ কেজি, আঘাতের সম্ভাব্য নির্ভুলতা প্রায় ২০ মিটার এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন উচ্চতা ১,৫০০ মিটার। একই সঙ্গে এর উড্ডয়ন প্রস্তুতির সময় ১৫ মিনিটেরও কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, এর নকশায় পূর্বপরিচিত আত্মঘাতী ড্রোনের কিছু বৈশিষ্ট্যের মিল থাকলেও এটি বিশেষভাবে গভীর দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের জন্য পরিকল্পিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো ও সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আঘাত শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতির বিষয় নয়; বরং জ্বালানি সরবরাহ, সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং কৌশলগত সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম ব্যয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ বর্তমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রকাশিত ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট দাবির সব অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা।