ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মোদির ব্যক্তিত্ব ও আলোচনায় দক্ষতার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, মোদিকে বাইরে থেকে অত্যন্ত শান্ত, নম্র ও ভদ্র মনে হলেও বাস্তবে তিনি অত্যন্ত কঠোর এবং কৌশলী একজন নেতা। ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি মোদিকে “ফেরেশতার মতো দেখতে” বলে উল্লেখ করেন এবং একই সঙ্গে বলেন যে আলোচনার টেবিলে তিনি “একজন কিলারের মতো কঠিন”। এই মন্তব্য প্রকাশের পর তা দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
জি–৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মূলত মোদির নেতৃত্বের ধরন এবং দরকষাকষির সক্ষমতা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্যে, মোদি একজন অত্যন্ত দক্ষ আলোচক, যিনি প্রয়োজনে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনায় সুবিধা আদায় করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখানে “কিলার” শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেননি। বরং এটি এমন একজন নেতাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যিনি রাজনৈতিকভাবে দৃঢ়চেতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কঠোর এবং কৌশলগত আলোচনায় কার্যকর অবস্থান নিতে সক্ষম। ট্রাম্প অতীতেও বিভিন্ন বিশ্বনেতার প্রসঙ্গে প্রশংসাসূচক অর্থে এমন নাটকীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী শব্দচয়ন করেছেন বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।
একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও বলেন যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে ভারত সফরের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়; বরং এটি দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ক এবং নেতৃত্ব পর্যায়ের যোগাযোগের একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করে। তবে ট্রাম্পের ব্যবহৃত ভাষার নাটকীয়তা এবং রাজনৈতিক অর্থবহ উপস্থাপনাই এই ঘটনাকে জি–৭ সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তে পরিণত করেছে।
