আন্তর্জাতিকJun 17, 20264 min read

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের অর্জন নাকি অসমাপ্ত লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কিছু আংশিকভাবে অর্জিত হলেও পারমাণবিক ও আঞ্চলিক প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।

শেয়ার করুন:
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের অর্জন নাকি অসমাপ্ত লক্ষ্য

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলা শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক কৌশলগত লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা, দূরপাল্লার ড্রোন উৎপাদন কমিয়ে আনা, আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। তিন মাসেরও বেশি সময় পর একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—এই লক্ষ্যগুলোর কতটা বাস্তবে অর্জিত হয়েছে।

যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারগুলোর একটি ছিল, যার পরিমাণ ২,৫০০ থেকে ৬,০০০-এর মধ্যে বলে বিভিন্ন মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। পাশাপাশি দূরপাল্লার ড্রোন উৎপাদনেও ইরান উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল। সংঘাতের প্রথম পর্যায়ে মার্কিন সূত্রগুলো দাবি করে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর হয়ে গেছে। একই সময়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানানো হয়। তবে সংঘাত চলাকালে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেখিয়েছে যে তাদের প্রতিরোধ সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

প্রচলিত সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে ইরানের নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। শতাধিক নৌযান ধ্বংস এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ নিষ্ক্রিয় করার তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবুও ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব বজায় রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের কৌশলগত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। কিন্তু বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা গেছে যে যুদ্ধের পরও ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতার সময়সীমায় বড় পরিবর্তন আসেনি। একই সঙ্গে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যকারিতা কমলেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

রাজনৈতিক দিক থেকেও শাসন পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও নেতৃত্বের ভেতরে পরিবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তবুও ইরানের রাষ্ট্র কাঠামো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কিছু লক্ষ্য আংশিকভাবে অর্জিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত নয় এবং ভবিষ্যৎ আলোচনাই এই সংঘাতের প্রকৃত ফল নির্ধারণ করবে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।