জাতীয়Jun 19, 20264 min read

বিমানবন্দর ব্যবস্থায় বিদেশি নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিদেশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর যুক্ত হচ্ছে, যা যাত্রীসেবা উন্নয়ন ও বিমান খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

শেয়ার করুন:
বিমানবন্দর ব্যবস্থায় বিদেশি নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় প্রথমবারের মতো বিদেশি অপারেটর যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৫৪ বছর ধরে এই সেবার একক নিয়ন্ত্রণে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, যা এখন ধাপে ধাপে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় পুরো খাত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে না, বরং যাত্রীসেবা-সংক্রান্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে বিদেশি অপারেটররা বিমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। তবে কার্গো বা পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা আগের মতোই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বলতে বোঝায় বিমানবন্দরে যাত্রী ও উড়োজাহাজ পরিচালনার বিভিন্ন সহায়ক সেবা, যেমন যাত্রী চেক-ইন, বোর্ডিং সহায়তা, লাগেজ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ক্যাটারিং সেবা, র‌্যাম্প অপারেশন এবং পার্কিং সহায়তা। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে লাগেজ চুরি, যাত্রী হয়রানি, সেবার ধীরগতি, জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর অসন্তোষের অভিযোগ উঠে আসছিল। একই সঙ্গে এ খাত থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিবছর বড় অঙ্কের আয় করলেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি হলেও আন্তর্জাতিক মান অর্জনে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার এই খাতে প্রতিযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে যাত্রীসেবার মান উন্নত হয় এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ে। এ লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাতা, যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যারা বিশ্বের শতাধিক বিমানবন্দরে সেবা পরিচালনায় অভিজ্ঞ। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক অপারেটর যুক্ত হলে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, ফলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে, তা হলো দীর্ঘদিনের একক নিয়ন্ত্রণ থেকে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বিমানের অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও অব্যাহত থাকবে। ফলে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর এই পরিবর্তন দেশের বিমান খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে, যার প্রভাব সরাসরি যাত্রীসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পড়বে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।