মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা এড়াতে বিকল্প কৌশল গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। দেশটি এখন লোহিত সাগরভিত্তিক রপ্তানি করিডর ব্যবহার করে ইউরোপে জেট জ্বালানি পাঠানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি বিশ্লেষণভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দর থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জেট জ্বালানি রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১,১৮,০০০ থেকে ১,৪০,০০০ ব্যারেল জ্বালানি এই রুট দিয়ে ইউরোপমুখী হচ্ছে। এই প্রবাহ অতীতে হরমুজ প্রণালিনির্ভর সরবরাহের সমপর্যায়ের বা কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর থেকে ইউরোপে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান প্রবেশপথ ছিল হরমুজ প্রণালি। আগে এই রুট দিয়েই দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জেট জ্বালানি ইউরোপে পৌঁছাত। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা, নৌ-নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সরবরাহ ঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে সৌদি আরব পশ্চিমমুখী রপ্তানি ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পাইপলাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পশ্চিম উপকূলে ট্যাংকার লোডিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
বছরের শুরুতে ইউরোপে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের বিকল্প রুট ব্যবহার, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ—সব মিলিয়ে সম্ভাব্য চাপ সামাল দেওয়া গেছে। ফলে বিমান পরিবহন খাতের উচ্চ চাহিদার সময়েও সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিবর্তনকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। লোহিত সাগর করিডর নিজেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই কৌশল ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
