সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একযোগে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কো অঞ্চলে আঘাত হানে, যার ফলে শহরের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে প্রায় ১,০০০ ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং ৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে একটি তেল সংরক্ষণাগারে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই হামলাকে রাশিয়ার ভেতরে পরিচালিত একটি দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ধরনের হামলাকে ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য রাশিয়াকে কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, এটি কিয়েভে সাম্প্রতিক রুশ হামলার প্রতিক্রিয়া, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জেলেনস্কি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, যদি ইউক্রেন আক্রান্ত হয়, তবে রাশিয়ার রাজধানীও নিরাপদ থাকবে না, যা সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
হামলার প্রভাবে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারে আগুন লাগে, যা এক মাসে তৃতীয় এবং এক সপ্তাহে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের তীব্রতায় তেল ট্যাংকের ঢাকনা উড়ে যেতে দেখা যায় এবং শিল্পাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে একটি শপিং সেন্টারেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাজনিত কারণে মস্কোর কয়েকটি আবাসিক ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শহরের চারটি প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলোতে দিনের আলোতেই বিস্ফোরণ ও ড্রোন উড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই সময় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইউক্রেন দাবি করেছে, রাশিয়াও তাদের ভূখণ্ডে ২০০টিরও বেশি ড্রোন ও একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতা আরও তীব্র করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বড় আকারের ড্রোন হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
