রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত এখন আরও বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রকাশ্য সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের দ্রুত শহর ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, খুব শিগগিরই কিয়েভে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত সামরিক হামলা চালানো হবে, যার লক্ষ্য থাকবে ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এই সতর্কবার্তা দেন বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কিয়েভে অবস্থানরত অন্যান্য বিদেশি নাগরিক ও দূতাবাস কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এই ঘোষণার আগে কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাশিয়ার দাবি, লুহানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। যদিও ইউক্রেন বলছে, তারা রুশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছিল এবং রাশিয়ার অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা রাশিয়ার এই অবস্থানকে “মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি ও রাজনৈতিক ভয় দেখানোর কৌশল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তারা কিয়েভ থেকে তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি সরিয়ে নিচ্ছে না এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত বড় সামরিক অভিযান শুরুর আগে এমন প্রকাশ্য কূটনৈতিক সতর্কতা খুব কমই দেখা যায়। তাই রাশিয়ার এই বার্তা একদিকে যেমন সম্ভাব্য বড় হামলার ইঙ্গিত বহন করছে, অন্যদিকে এটি ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিয়েভের নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে এবং বিদেশি মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৃহত্তর বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলছে।
