ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে আরও ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর পরিচালিত এই অভিযানে রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার বড় অংশ কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৮২টি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে অবশিষ্ট হামলায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলার ফলে আবাসিক এলাকা, বাজার, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে কিয়েভের ঐতিহাসিক ও ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনা কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরার ১১শ শতাব্দীর ডরমিশন ক্যাথেড্রালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, স্থাপনাটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। ইউক্রেনের অর্থোডক্স চার্চের প্রধান মেট্রোপলিটন এপিফানিউস এই ঘটনাকে মানবতা, ইতিহাস এবং খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরে তথাকথিত দ্বৈত আঘাত কৌশলের হামলায় ৪ জন জরুরি সেবাকর্মী এবং ১ জন পৌর কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে দিনিপ্রো ও সুমি অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প স্থাপনা, নিয়োগ কেন্দ্র এবং বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছে।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা দীর্ঘপাল্লার ড্রোন অভিযান জোরদার করেছে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, তাদের এক হামলায় রাশিয়ার তুলা শহরে ৩ জন নিহত হয়েছে এবং অধিকৃত ক্রিমিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই নতুন উত্তেজনা এমন সময়ে দেখা দিল, যখন ভলোদিমির জেলেনস্কি, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথক কূটনৈতিক যোগাযোগে যুক্ত রয়েছেন। তবে ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এখনো কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
