মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আবারও নতুন এক মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র, সীমান্তঘেঁষা বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকের অভিযোগ অনুযায়ী, রাখাইনের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মংডু এলাকার একাধিক রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের পারিবারিক তথ্য, পরিচয়সংক্রান্ত নথি ও বয়স যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাউংজার, হ্লা বাও জার, কিয়াউক হ্লা কা এবং মিঙ্গালার গি-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তরুণদের বয়স এবং অন্যান্য তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সাধারণ রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার আশঙ্কা করছে যে, এই তালিকা ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে কিছু পরিবার নিজেদের সন্তানদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জনবল সংকটে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু ও অরক্ষিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো জনগোষ্ঠীকে তাদের সম্মতি ছাড়া সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও মানবিক আইনের পরিপন্থী। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত, নির্যাতিত এবং নাগরিক অধিকারবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি এবং বৈষম্যের শিকার। তাই নতুন করে জোরপূর্বক সামরিক নিয়োগের অভিযোগ তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক পর্যবেক্ষক আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থার প্রবেশ সীমিত থাকায় অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাইও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিষয়টির আন্তর্জাতিক তদন্ত, স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
