বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও সীমান্তভিত্তিক নিরাপত্তা প্রশ্ন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, মতামতভিত্তিক লেখা ও গণমাধ্যম আলোচনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব আলোচনায় দাবি করা হচ্ছে, ভারতের কিছু কট্টরপন্থী নীতিবিশ্লেষক ও মতাদর্শভিত্তিক মহলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বিশেষ করে রংপুর বিভাগ এবং শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে কিছু তাত্ত্বিক কৌশলগত ধারণা উপস্থাপিত হয়েছে। আলোচনায় এমনও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য কোনো সরকারি অবস্থান বা আনুষ্ঠানিক নীতির অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়নি।
কিছু বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের ভেতরে বিদেশি অর্থায়ন, সাংস্কৃতিক প্রকল্প বা প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা নিয়ে আরও সতর্ক নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীসহ কয়েকটি প্রকল্পকে ঘিরে প্রশ্ন তোলা হলেও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগ, রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এবং বাস্তব তথ্যকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; অর্থনীতি, অবকাঠামো, সামাজিক স্থিতিশীলতা, তথ্যপ্রবাহ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন, জনআস্থা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ভূরাজনৈতিক আলোচনা বা অভিযোগের ক্ষেত্রে যাচাইকৃত তথ্য, রাষ্ট্রীয় অবস্থান এবং নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সচেতনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও দায়িত্বশীল জনআলোচনাও সমান প্রয়োজনীয়।
