রাজশাহী সিল্ক শিল্পকে দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, এই শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
শনিবার সকালে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, রাজশাহী সিল্ক শুধু একটি স্থানীয় পণ্য নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার কারণে দেশীয় সিল্ক শিল্প পিছিয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে দেশের চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এই নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার উৎপাদন বাড়ানো, তুঁত চাষ সম্প্রসারণ এবং রেশম সুতার মান উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে রেশমের চাহিদা প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন হলেও স্থানীয় উৎপাদন সেই তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থায় শিল্পকে পুনরায় শক্তিশালী করতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
রাজশাহী সিল্ক শিল্পে যুক্ত ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন কারিগর এ খাতে যুক্ত থাকলেও তাদের অনেকেই বয়সজনিত কারণে পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ না দিলে এই ঐতিহ্য বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি জানান, বন্ধ থাকা সিল্ক কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের মতো বড় বাজারে বাংলাদেশের সিল্ক পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরে “রাজশাহী সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ” বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী সিল্ক শিল্প আবারও দেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
