ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না” এবং “জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ কর”।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি স্পিকারের পাশে বসে বক্তব্য শুরু করেন। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। বিরোধী দলের সদস্যরা পরে ওয়াক আউট করেন।
সংসদে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত আলোচনায় শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সংসদ সদস্যগণ এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “খালেদা জিয়া আজ সংসদে থাকলে সবচেয়ে খুশি হতেন। তিনি গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে জীবিত থাকবেন।”
বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা শোক প্রস্তাবে বিভিন্ন নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ ও ফেলানী খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হোক।” স্পিকার আশ্বাস দেন যে নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দর্শক গ্যালারিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস, তারেক রহমানের পরিবারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধিবেশন শুরুতে স্পিকার বলেন, “সবাইকে সবার আগে বাংলাদেশকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। জনগণ সংসদের কার্যক্রম অধীর আগ্রহে দেখছে এবং সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে।”
এর আগে, জোহরের নামাজের জন্য সংসদে আধঘন্টার বিরতি নেওয়া হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্পিকারের মাইকে কিছুক্ষণ গোলযোগ দেখা দেয়, যা শেষ হয় হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে।
