জাতীয়Jun 11, 20264 min read

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণ অব্যাহত , বৈদেশিক প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ ।

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাজেকের অগ্নিসংযোগ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণ অব্যাহত , বৈদেশিক প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ১১ জুন ২০২৬ তারিখে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম কালুছড়া এলাকায় একটি শুকনা হলুদের আড়তে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ টন শুকনা হলুদ পুড়ে যায়, যার বাজারমূল্য বিপুল। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জুমচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যারা দীর্ঘ পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতের প্রস্তুতির সময় এই ক্ষতির মুখে পড়ে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুটে নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশ এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা না করার হুমকি উল্লেখ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় একাধিক সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নিয়ন্ত্রণ, প্রভাব বিস্তার ও অর্থ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধে জড়িত। এর ফলে ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, ঠিকাদার ও সাধারণ জুমচাষিরা নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল ব্যবহার করে অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাচারের নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে, যেখানে মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু রুটকে ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া অপহরণের ঘটনা মুক্তিপণ আদায় ও আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ঘটে থাকে বলে আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অপরাধমূলক অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও আস্থা তৈরির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা ও সকল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে যে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতি একসঙ্গে নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।