বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো নিয়মিত সাবমেরিন উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানান। পরে বিষয়টি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সম্প্রতি চীনের সহায়তায় নির্মিত অত্যাধুনিক হ্যাঙ্গর-শ্রেণির প্রথম সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। এই সাবমেরিন পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। যাত্রাপথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে অবস্থানকালে তিনি জানান, নতুন সাবমেরিন বহর পাকিস্তানকে শুধু আরব সাগরেই নয়, ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরেও কার্যকর সামুদ্রিক উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।
কমোডর ফারুক হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি কৌশলগত পরিবর্তনকারী সক্ষমতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৮টি সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে এবং এগুলো ভবিষ্যতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব সাবমেরিন চীনের একটি উন্নত নকশার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এবং এতে দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থানের সক্ষমতা, উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, আধুনিক যুদ্ধ পরিচালনা প্রযুক্তি এবং নিম্ন দৃশ্যমানতার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও গোপন সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় এগুলোর কার্যকারিতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সাবমেরিন বহরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বঙ্গোপসাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চল, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কার জন্য এই জলসীমা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বৃহত্তর ইন্দো–প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবেও এর গুরুত্ব বেড়েছে।
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ড এবং আন্দামান–নিকোবর অঞ্চলে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থান বঙ্গোপসাগরে তাকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছে। তবে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সাবমেরিন উপস্থিতি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সামুদ্রিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বাকি সাবমেরিনগুলো পর্যায়ক্রমে ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ মোতায়েন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।
