ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬:** ভারতের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় আগামীকাল সোমবার ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে নেপাল কেবল বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই সরবরাহ করবে। পূর্ববর্তী সরবরাহের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নেপালের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নেপাল-ভারত যৌথ পরিচালনা কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির ব্যবস্থা করতে ভারতের সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়।
তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ১,০০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আন্তঃদেশীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত সঞ্চালন সক্ষমতা নেই। এ কারণে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনও এখনো দেওয়া সম্ভব হয়নি। নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থার্কা বাহাদুর থাপা জানান, আপাতত বাংলাদেশে শুধুমাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও অনুমোদন সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু হয়, যা এ অঞ্চলে ত্রিপক্ষীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার সূচনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের বিপুল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যাপ্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
