গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বিএনপির নীতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যুগান্তরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য জনগণকে জ্ঞানহীন রাখার মাধ্যমে সহজভাবে শাসন নিশ্চিত করা।
সামান্থা বলেন, “বিএনপি এমন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে, এখন জুলাই সনদ প্রক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ যখন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে, তখন তারা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। কিন্তু বিএনপি এই প্রক্রিয়াটিকে অবজ্ঞা করছে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা হ্রাস করে মূর্খ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে চায়। “একজন শাসকের জন্য মূর্খ জনগোষ্ঠী সুবিধাজনক, কারণ তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। আর বিএনপি এটাই করছে,” মন্তব্য করেন এনসিপির নেত্রী।
সামান্থা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করে বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা জনগণকে এক অরাজনৈতিক বার্তা দেয়। এই বার্তায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা কমেছে। বিএনপি এবং অন্য কিছু রাজনৈতিক দলও এই অরাজনৈতিক প্রজন্ম তৈরির প্রকল্পে নিয়োজিত।”
তিনি বলেন, এনসিপি জনগণের ভোটিং ক্ষমতাকে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে দেখে। “আমাদের সঙ্গে বিএনপির মৌলিক পার্থক্য এই যে, আমরা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি না, তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা ও অংশগ্রহণকে সম্মান করি।”
সামান্থা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি একটি অযৌক্তিক রাজনীতির সৃষ্টি করতে চাইছে, যা তরুণ ছাত্রজনতার মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের মনস্তত্ত্ব দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
