নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই যুবদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহতরা হলেন- এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপির কর্মী রফিক (৪০) এবং স্থানীয় বাসিন্দা আসমাউল হোসেনের ছেলে মাদ্রাসাছাত্র ইমরান হোসেন (১৩)। ইমরান বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবা জানিয়েছেন, বুকের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহমেদ অভি ও ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদের গ্রুপ একটি গার্মেন্টসের ঝুট দখলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ মুখোমুখি অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই গ্রুপ গোলাগুলিতে লিপ্ত হয় এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুরো চাঁদনী হাউজিং এলাকায় গুলির শব্দে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, “ঘটনাটি ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট নিয়ে বিরোধ চলছিল। কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, “পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যারা সংঘর্ষে জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
