জাতীয়Jun 19, 20264 min read

সীমান্ত নিরাপত্তা বনাম কৃষকের জীবিকা: নতুন সংঘাত

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|জাতীয়

মুর্শিদাবাদের ডোমকলে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জীবিকা, ভূমি অধিকার ও সীমান্ত নীতির প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

শেয়ার করুন:
সীমান্ত নিরাপত্তা বনাম কৃষকের জীবিকা: নতুন সংঘাত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল মহকুমায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় ৫০০ একরের বেশি জমি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জমি চিহ্নিতকরণের কার্যক্রম শুরু হতেই স্থানীয় কৃষকদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে প্রশাসন। মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডোমকল ব্লকের ঘোষপাড়া, সর্বপল্লী ও ভুতগাড়ি এলাকার প্রায় ১৫ হাজার বিঘা তিন ফসলি জমি সরাসরি এই উদ্যোগের প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। দক্ষিণ ঘোষপাড়া, উত্তর ঘোষপাড়া, সর্বপল্লী, ফরাজীপাড়া ও মুরাদপুর গ্রামের শত শত কৃষক বহু প্রজন্ম ধরে এসব জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এসব জমিতে সারা বছর পাট, গম, কলাই, মসুর, রসুন, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদিত হয়। অধিকাংশ কৃষক ক্ষুদ্র চাষি এবং পরিবারপ্রতি জমির পরিমাণ মাত্র ১ থেকে ২ বিঘা হওয়ায় জমি হারালে তাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়বে। কৃষকদের দাবি, জলঙ্গী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেকে জমি হারিয়েছেন এবং অবশিষ্ট উর্বর জমিই এখন তাদের জীবিকার শেষ অবলম্বন। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৬০০ পরিবার ও অন্তত ৩ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি এই কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। গত ৩১ মে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জমি চিহ্নিত করতে এলাকায় গেলে কৃষকেরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ভুতগাড়ি মাঠসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে প্রশাসনের মৌখিক আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কৃষকদের বক্তব্য, নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনা নির্মাণে তাদের আপত্তি নেই, তবে তা যেন কৃষিজমির পরিবর্তে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনটির মতে, কৃষকদের সম্মতি ছাড়া তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি এবং আটককেন্দ্র সংক্রান্ত অভিযোগও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি কৃষিজমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা বাতিল, কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার বা সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও কৃষকদের জীবিকার মধ্যকার এই ভারসাম্যের প্রশ্ন ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও জননীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।