বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে শিশুদের হাতের সামান্য টানেই নতুন পিচ উঠে যাওয়ার ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর পাইতিখোলা খেয়াঘাট থেকে সদর ইউনিয়নের কুতুবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার চারশ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ও প্রাইম স্তর প্রয়োগ না করায় পিচ টেকসই হয়নি। ফলে পিচের স্তর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে কোনো যন্ত্র ছাড়াই শিশুরাও সহজে তা তুলে ফেলতে পারছে, যা একটি গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত বহন করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পিচ ঢালাইয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন অবস্থা তৈরি হওয়ায় তারা আশঙ্কা করছেন, সামান্য বৃষ্টি বা যানবাহনের চাপেই সড়কটি দ্রুত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এর প্রতিবাদে তারা কাজ বন্ধ করে দেন, যা জনসচেতনতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। অন্যদিকে, ঠিকাদার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং পিচ সম্পূর্ণভাবে শক্ত হতে কিছু সময় লাগে। তবে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যমান বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি টেকসই সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড উপেক্ষা করা হলে তা কেবল অর্থের অপচয় নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে কাজের তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও মান বজায় না থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়ে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন সঠিক নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা।
