স্থানীয়Apr 18, 20263 min read

শিশুদের হাতের টানেই উঠছে সড়কের পিচ, কাজ বন্ধ করে দিলো স্থানীয়রা

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|স্থানীয়

বরিশালের মুলাদীতে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণের অভিযোগে শিশুদের হাতেই পিচ উঠে যাওয়ায় স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেয়, যা নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

শেয়ার করুন:
শিশুদের হাতের টানেই উঠছে সড়কের পিচ, কাজ বন্ধ করে দিলো স্থানীয়রা

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে শিশুদের হাতের সামান্য টানেই নতুন পিচ উঠে যাওয়ার ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর পাইতিখোলা খেয়াঘাট থেকে সদর ইউনিয়নের কুতুবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার চারশ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ও প্রাইম স্তর প্রয়োগ না করায় পিচ টেকসই হয়নি। ফলে পিচের স্তর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে কোনো যন্ত্র ছাড়াই শিশুরাও সহজে তা তুলে ফেলতে পারছে, যা একটি গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত বহন করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পিচ ঢালাইয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন অবস্থা তৈরি হওয়ায় তারা আশঙ্কা করছেন, সামান্য বৃষ্টি বা যানবাহনের চাপেই সড়কটি দ্রুত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এর প্রতিবাদে তারা কাজ বন্ধ করে দেন, যা জনসচেতনতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। অন্যদিকে, ঠিকাদার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং পিচ সম্পূর্ণভাবে শক্ত হতে কিছু সময় লাগে। তবে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যমান বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি টেকসই সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড উপেক্ষা করা হলে তা কেবল অর্থের অপচয় নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে কাজের তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও মান বজায় না থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়ে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন সঠিক নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।