২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে দেওয়া এই ভাষণে তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতি ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি হামাসের হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কোনো অজুহাতেই বেসামরিক নাগরিক হত্যাকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যতেও ভারত পূর্ণ দৃঢ়তা ও আস্থার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে থাকবে। তাঁর এ বক্তব্যের সময় নেসেটে উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ৭ অক্টোবরের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশকে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বিপুল বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ভারতের ভেতরেও মোদির এ অবস্থান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও ভাষণে তিনি ‘জাতিগত নিধন’ শব্দ ব্যবহার করেননি, তবুও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত গাজা শান্তি প্রস্তাবের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে, যা ওই অঞ্চলের সব মানুষের জন্য শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
মোদি আরও বলেন, ভারত ও ইসরায়েল বিশ্বস্ত অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই গভীর হয়েছে। ২০১৪ সালে মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়; ২০১৭ সালে তাঁর ইসরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। সর্বশেষ এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের উচ্চতায় উন্নীত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। গাজা সংকটের সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই ভাষণ দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
