মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জি–৭ দেশগুলোর নেতারা ইরানকে ঘিরে উদ্ভূত নতুন যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে লেবাননে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের লেক জেনেভা তীরবর্তী ইভিয়ান-লে-বেনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের সময় ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি সমঝোতার তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে এবং জানা যায় যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পূর্বে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।
জি–৭ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা অপরিহার্য এবং এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে জ্বালানি সরবরাহ রুট বৈচিত্র্যময় করার প্রতিশ্রুতি দেন। সম্ভাব্যভাবে প্রণালী পুনরায় চালু হলে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে।
যদিও এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর সময় ঘোষিত প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ইরানের শাসন কাঠামোর পরিবর্তন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়গুলো এখনো অর্জিত হয়নি বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। একই সময়ে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানও অপরিবর্তিত রয়েছে।
সবচেয়ে জটিল প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে উঠেছে লেবাননের ভবিষ্যৎ। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের অবস্থান হলো, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ হতে হবে এবং ইসরায়েলকে প্রত্যাহারের পথে যেতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রত্যাহার বিষয়ে সম্মত নয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সম্ভাব্য শান্তি কাঠামোর আওতায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের কথা আলোচনায় এসেছে এবং ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনাও উত্থাপিত হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে দেখা গেছে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রত্যাশায় তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা শুধু যুদ্ধবিরতির নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
