আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নতুন করে নৈতিক ও মানবিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা মানুষের আচরণ, যোগাযোগের ধরন এবং তথ্যগত সংযোগ বিশ্লেষণ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করছে। আগে যে কাজে বহু সামরিক বিশ্লেষকের দীর্ঘ সময় লাগত, এখন তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি বাস্তব মানবিক পরিস্থিতি বা নির্দোষ মানুষের উপস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে না। কোনো ব্যক্তির আত্মীয়তা, যোগাযোগ বা সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফলে যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য, প্রশাসনিকভাবে যুক্ত ব্যক্তি কিংবা সাধারণ নাগরিকও ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে যন্ত্রনির্ভর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। যদি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সাধারণ মানুষের বাড়িতে হামলা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায়ভার কার ওপর বর্তাবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী প্রতিটি সামরিক অভিযানে মানবিক যাচাই ও বেসামরিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রতিরোধ্য গতি যদি মানবিক বিচারবোধকে প্রতিস্থাপন করে, তাহলে ভবিষ্যতের যুদ্ধ আরও ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে। প্রযুক্তির উদ্দেশ্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এর অনৈতিক ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন সবচেয়ে বড় দাবি হলো—যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কঠোর নীতিমালা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
