যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের রফিউদ্দীন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মোত্তালিবের নামে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলমান। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই শিক্ষক তার পেশার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ ও জমি অর্জন করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, যশোর শহরের খড়কি এলাকায় তার তিনতলা বাড়ি ৪ শতক জমির ওপর নির্মিত। এছাড়া ঝিকরগাছা পৌরসভার পুরন্দরপুর (সাদ্দামপাড়া) এলাকায় ১২ শতক জমি ও মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে বাড়ি রয়েছে। মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া, মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে থাকা মেহগনি এবং শিশুগাছ বিক্রি করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
সূত্র জানায়, ২০২০ সালে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের পাঁচটি পদে নিয়োগের নামে প্রায় ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, উপাধ্যক্ষ পদে ৭ লাখ, অফিস সহকারী ও হিসাবরক্ষক পদে ৭ লাখ, কম্পিউটার অপারেটর পদে ৬ লাখ, আয়া পদে ৪ লাখ এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে থাকা মেহগনি ও একটি বড় শিশুগাছ বিক্রি করে অধ্যক্ষ নিজে সম্পদশালী হয়েছেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল মোত্তালিব এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানান, ১৯৯১ সাল থেকে তিনি শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন এবং ২০০০ সালে তার স্ত্রীও শিক্ষক হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের বেতন, ব্যাংক ঋণ, স্ত্রীর বাবার বাড়ির সম্পদ এবং আমার পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে বাড়ি ও জমি তৈরি করেছি। গাছ বিক্রি হয়েছে দু-একটি মাত্র, যা অভ্যন্তরীণ কমিটির হিসাব অনুযায়ী।”
মাদ্রাসার শিক্ষক ও অর্থ কমিটির সদস্য মাওলানা সাইদুল ইসলাম বলেন, “যা বিক্রি হয়েছে তা মসজিদ কমিটির। একটি মরা গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। নিয়োগ সংক্রান্ত আয়-ব্যায়ের হিসাব কমিটির লোকরা দিতে পারবেন।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনী খাতুন জানান, এখন পর্যন্ত অফিসিয়াল কোনো অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ ও তার প্রমাণভিত্তিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকার সামাজিক মহলে মাদ্রাসার অর্থ-সম্পদের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
