ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। নতুন সংসদের প্রথম বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আলোচনা। বিশেষ করে অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব করবেন কে—এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বৈঠকে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে থাকায় তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ফলে নতুন সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি চাইলে কোনো সংসদ সদস্যকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য মনোনীত করতে পারেন। তবে অতীতে একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে—১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদের পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ একজন সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়ার নজির আছে। এবারও সেই ধারাই অনুসরণ করা হতে পারে বলে সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, আগামীকাল বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হবে।
তিনি বলেন, অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসন খালি রাখা হবে। প্রথমে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতা অধিবেশন পরিচালনার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন এবং অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। পরে ওই সদস্যই অস্থায়ীভাবে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন।
সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি কুমিল্লা থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এছাড়া এই অধিবেশনে সংসদের উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকারের নামও ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যতও এই অধিবেশনে নির্ধারিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দলও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তাই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দিনের সভাপতিত্ব এবং স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
