যশোরে তেলের মজুত কমে যাওয়ার ভয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে শহরের বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে গত দুই দিন ধরে ব্যাপক হুড়োহুড়ি চলছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকরা দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে ব্যস্ত।
যশোর জেলা বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন জানান, শুক্রবার বিকেল নাগাদ শহরের চার থেকে পাঁচটি ফুয়েল স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ফুয়েল স্টেশনের ভেতরে এবং বাইরে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই একবারে দুইশ টাকার বেশি তেল না নেওয়ার জন্য স্টেশন কর্তৃপক্ষের অনুরোধ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। শহরের আরএন রোডের মণিহার প্রেক্ষাগৃহের বিপরীতে যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিসের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
স্টেশনের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন, “প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মানুষ বেশি করে তেল নিচ্ছেন। আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। তেল যতদিন থাকবে বিক্রি হবে, কিন্তু হুড়োহুড়ি কমাতে দুইশ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না।”
শহরের বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেলের ট্যাংকি ভর্তি, পাঁচ লিটারের ক্যান এবং ৪০ লিটারের ড্রামে তেল নেওয়া দেখা গেছে। মেসার্স মনির উদ্দিন আহমেদের স্টেশনের ম্যানেজার খালিদ জানান, “মোটরসাইকেলের মালিকরা ভয় পাচ্ছেন যে পরবর্তীতে তেল নাও পাওয়া যেতে পারে, তাই হঠাৎ করে বড় পরিমাণে তেল নিয়ে যাচ্ছেন।”
পুলিশের পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, “ফুয়েল শুধুমাত্র যানবাহনে দেওয়া হবে, অন্য কোনো পাত্রে বা ড্রামে তেল দেওয়া যাবে না। কৃষকের জন্য প্রয়োজন হলে থানা বা ক্যাম্প থেকে স্লিপ নিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার কারণে শহরের মেসার্স তোফাজ্জেল হোসাইন, মেসার্স মনির উদ্দিন, মেসার্স শেখ আকিজ উদ্দিন ও খাজুরা ফিলিং স্টেশনগুলো এক সময়ের জন্য বন্ধ করতে হয়েছে।
জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, “বিপিসির চেয়ারম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন দেশে ১৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু এই খবরের প্রভাবে যারা সাধারণত একশ টাকার তেল নিতেন, তারা হাজার টাকার তেল কিনে মজুত করছেন। ফলে দুটি দিনের মজুত এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে।”
তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, “পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা রোধ করতে বিশেষ নজর দিতে হবে। যদি এভাবে চলতে থাকে, খুব শিগগিরিই সব স্টেশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
