প্রযুক্তিMay 29, 20264 min read

ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা: ওয়িক্স ও রাপিডে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

ইসরায়েলের ওয়িক্স ও রাপিডে বড় আকারে কর্মী ছাঁটাই ঘোষণা করা হয়েছে। মুদ্রা চাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিবর্তনকে প্রধান কারণ বলা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা: ওয়িক্স ও রাপিডে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই

ইসরায়েলের উচ্চপ্রযুক্তি খাতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যেখানে দেশের দুটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—ওয়েবসাইট নির্মাণ প্ল্যাটফর্ম ওয়িক্স এবং আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানি রাপিড—একযোগে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শিল্পে চলমান পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং অর্থনৈতিক চাপের বাস্তব চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

প্রথম ধাক্কাটি আসে ওয়িক্স থেকে, যেখানে কোম্পানিটি তাদের মোট কর্মীর প্রায় পাঁচভাগের একভাগ, অর্থাৎ প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে কর্মীদের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন এবং পরে এক বার্তায় এটিকে অত্যন্ত কঠিন ও অনিবার্য সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ব্যাখ্যায় উঠে আসে দুটি প্রধান কারণ—একদিকে মুদ্রার অস্থিরতা, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত রূপান্তর।

কোম্পানিটির আয়ের বড় অংশ আসে মার্কিন ডলারে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ ব্যয় হয় স্থানীয় মুদ্রায়, ফলে মুদ্রার মানের পরিবর্তনে খরচের ভারসাম্য নষ্ট হয়। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় মুদ্রা শক্তিশালী হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং কোম্পানির আর্থিক চাপ বেড়ে যায়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি কোম্পানির কাজের কাঠামো বদলে দিচ্ছে, যেখানে প্রচলিত মানবনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের কাজের মডেল তৈরি হচ্ছে।

একই সময়ে ফিনটেক কোম্পানি রাপিডও ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোম্পানিটি আগে কর্মীদের জন্য বিলাসবহুল ইভেন্ট ও বড় আকারের আয়োজনের জন্য পরিচিত থাকলেও এখন তারা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোতে রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। কোম্পানি নেতৃত্বের দাবি, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অংশ।

তবে রাপিডের ছাঁটাই ঘোষণার সময় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ একই সময়ে কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় ক্রীড়া বিনিয়োগের খবর প্রকাশ পায়। এই বৈপরীত্য প্রযুক্তি খাতে আস্থা ও ব্যবস্থাপনা নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে ওয়িক্সের শেয়ারমূল্যে বছরের শুরু থেকেই বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, যা কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো শুধু দুটি কোম্পানির সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মসংস্থান কাঠামোর পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তি খাতে এই পরিবর্তন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামো ধীরে ধীরে নতুন স্বয়ংক্রিয় ও বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগোবে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।