২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রেখে নতুন আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ১২০ সদস্যের কনেসেটে ৯৩ ভোটে অনুমোদিত এই আইনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রচলিত বিচারিক সুরক্ষার অনেক অংশ শিথিল করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এতে জোরপূর্বক আদায় করা সাক্ষ্য বা দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতেও কঠোর সাজা দেওয়া হতে পারে, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বিচারব্যবস্থা যদি অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ না দেয়, তাহলে সেই বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
বর্তমানে ইসরায়েল ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকশ ফিলিস্তিনিকে আটক রেখেছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়নি। নতুন আইনে বিচারকার্যের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, এটি বিচারকে জনমত প্রভাবিত করার একটি প্রদর্শনীতে পরিণত করতে পারে। আরব অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলোর মতে, এই আইন নিরপেক্ষ বিচারের পরিবেশকে দুর্বল করে গণহারে দণ্ড নিশ্চিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সময়ে গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করছে এবং ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে মামলাও চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনকে অনেক বিশ্লেষক আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে, এই আইন মূলত গাজায় সংঘটিত সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে বৈশ্বিক দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কখনোই প্রতিশোধমূলক বা একতরফা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভব নয়। বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় না থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই আইন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর করেছে।
