আন্তর্জাতিকMay 27, 20264 min read

গাজা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের বিস্তৃত সামরিক নিয়ন্ত্রণ: “বৃহত্তর ইসরায়েল” পরিকল্পনার নতুন বাস্তবতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

গাজা, দক্ষিণ লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের বিস্তৃত সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নতুন সীমারেখা তৈরির অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

শেয়ার করুন:
গাজা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের বিস্তৃত সামরিক নিয়ন্ত্রণ: “বৃহত্তর ইসরায়েল” পরিকল্পনার নতুন বাস্তবতা?

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু যুদ্ধের সীমায় আটকে থাকেনি; বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে বদলে দিয়েছে। গাজা, দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এখন আর সাময়িক অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ ও যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এসব এলাকায় ধীরে ধীরে স্থায়ী সামরিক নিয়ন্ত্রণ বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। আল জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, গাজা, দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়া মিলিয়ে প্রায় এক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা বর্তমানে সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। এই বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা, যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার এবং যুদ্ধবিরতির পর প্রকাশিত সামরিক মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল যে “হলুদ সীমারেখা” প্রকাশ করে, সেটিকে তারা সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকার সীমা হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাস্তবে ইসরায়েলি বাহিনী ঘোষিত সীমার বাইরেও অগ্রসর হয়ে নতুন নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চল, শুজাইয়া ও তুফাহ এলাকায় যুদ্ধবিরতির পরও সামরিক অবস্থান সম্প্রসারণের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বহু ফিলিস্তিনি পরিবার নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একইভাবে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরও বহু গ্রাম ও আবাসিক এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ, সামরিক টহল ও অবকাঠামো ধ্বংসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব অভিযান শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রতিরোধশক্তির সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও পরিচালিত হয়েছে।

দক্ষিণ সিরিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক সীমারেখা ঘোষণা না করলেও অধিকৃত গোলান মালভূমির বাইরেও নতুন সামরিক পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চলেও নতুন সামরিক অবকাঠামো গড়ে ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে, যা উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত একটি বিস্তৃত সামরিক করিডরের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ শুধু নিরাপত্তা কৌশল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূখণ্ডগত প্রভাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা “বৃহত্তর ইসরায়েল” ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। যদিও ইসরায়েল সরকার দাবি করে, এসব পদক্ষেপ হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হুমকি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে, তবুও যুদ্ধবিরতির পরও নতুন সামরিক সীমারেখা তৈরি, জনবসতি ধ্বংস ও বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।