মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসরাইল নতুন করে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্ব জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা ইরানের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এই অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইসরাইল সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পাদিত কোনো সমঝোতা ইসরাইলের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, প্রয়োজন হলে নিজেদের কৌশলে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও বিবেচনায় রাখা উচিত।
তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি রাজনৈতিক বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা ছাড়া ইসরাইলের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বিমান অভিযানে ইসরাইলি বিমানবাহিনী আকাশে জ্বালানি সরবরাহ সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমিত সংখ্যক সহায়ক উড়োজাহাজ দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ইরান দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত সামুদ্রিক পথের ওপর সম্ভাব্য চাপ সৃষ্টি করা হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাত শুধু সরাসরি সামরিক অভিযানে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; বরং সাইবার কার্যক্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা, নাশকতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং গোপন কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব সম্ভাবনা বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে আলোচিত হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।
