২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচ খেলবে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে তিনি এই নিশ্চয়তা দেন এবং শুরুতেই প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা বা কূটনৈতিক জটিলতা খেলাধুলার পথে বাধা হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এমনকি ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাবও উঠেছিল। পাশাপাশি ইরানকে বাদ দিয়ে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই ঘটনাপ্রবাহে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছিল স্পষ্ট। একদিকে মার্কিন বিশেষ দূত ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে আসে এবং ইরানি ফুটবলারদের স্বাগত জানানোর বার্তা দেয়। অন্যদিকে, কানাডায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। জানা যায়, কানাডা পূর্বেই ইরানের একটি সামরিক সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় এই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ফলে ফিফা কংগ্রেসে ইরানের অনুপস্থিতি পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তোলে।
তবে এসব জটিলতার মধ্যেও ফিফা সভাপতি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে জানান, বিশ্বকাপ একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক বিভেদ কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাঁর এই ঘোষণার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ফুটবলকে নিরপেক্ষ ও সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতেই ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরানের মতো শক্তিশালী একটি দলের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি, বরং এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ঐক্য ও সমতার বার্তা দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বকাপের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং সংহতি গড়ে তুলতে পারে। ফিফার এই অবস্থান ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
