প্রযুক্তিMay 31, 20264 min read

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এআই-ই ব্যবহার করেই তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সাইবার ও তথ্যযুদ্ধ !

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান সাইবার ও তথ্যযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এআই-ই ব্যবহার করেই তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সাইবার ও তথ্যযুদ্ধ !

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, গবেষণা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সাইবার ও তথ্যযুদ্ধের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যে প্রযুক্তি মূলত মানুষের কাজ সহজ করা, জ্ঞানভিত্তিক সহায়তা প্রদান এবং উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল, সেই প্রযুক্তিই এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ইরানের সাইবার ইউনিটগুলো আগের তুলনায় অনেক দ্রুত ক্ষতিকারক সফটওয়্যার তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত এবং সম্ভাব্য আক্রমণের পরিকল্পনা করতে সক্ষম হচ্ছে। অতীতে যে ধরনের জটিল সাইবার অভিযানের প্রস্তুতিতে দীর্ঘ সময় লাগত, বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কারণে সেই কাজ তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় বিশ্বাসযোগ্য বার্তা তৈরি করে প্রতারণামূলক যোগাযোগ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভাষাগত ভুল কমে যাওয়ায় এসব বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে মনে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে দীর্ঘমেয়াদি ভুয়া পরিচয় তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, জনমত গঠন এবং তথ্যভিত্তিক প্রচারণা পরিচালনা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ উন্মুক্ত তথ্য, সামরিক নথি, গবেষণা উপাত্ত এবং বিভিন্ন ভাষার তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ ও অনুবাদ করার সক্ষমতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে তথ্য সংগ্রহ, কৌশল নির্ধারণ এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাইবার ও তথ্যযুদ্ধের পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থায়ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। যদিও এসব কর্মসূচির প্রকৃত অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত, তবুও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে ভবিষ্যতের সংঘাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, আধুনিক সংঘাত এখন শুধু অস্ত্র ও সামরিক শক্তির লড়াই নয়; এটি তথ্য, উপাত্ত, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর প্রভাব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাও। ফলে প্রযুক্তি নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্ক আগামী বছরগুলোতে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।