আন্তর্জাতিকJun 1, 20264 min read

চুক্তি করলেই ইরানকে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিবে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক|আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

শেয়ার করুন:
চুক্তি করলেই ইরানকে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিবে যুক্তরাষ্ট্র।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি ভবিষ্যতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার স্থায়ী অঙ্গীকার করে এবং একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়, তাহলে দেশটিকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলার প্রদান করা হতে পারে। এই অর্থ একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মিত্র দেশ অর্থায়ন করবে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত এই অর্থ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো, শিল্পকারখানা, পৌর সুবিধা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। গত কয়েক বছরের সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উত্তেজনার ফলে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের সংঘাত এবং ২০২৬ সালের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে দেশটির অবকাঠামো ও উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

তবে এই বিপুল অর্থনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে। প্রথমত, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত সব ধরনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তৃতীয়ত, ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা দূর হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আলোচনাগুলো সফল হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসানই ঘটবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেন ল্যাব নিয়ে জৈব অস্ত্র অভিযোগে তীব্র বিতর্ক

ইউক্রেনের মার্কিন অর্থায়িত ল্যাবগুলো নিয়ে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ করেছেন। দাবি অনুযায়ী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জৈবিক লক্ষ্যবস্তু তৈরির ইঙ্গিত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে ৬ বিলিয়ন ডলার ঝুঁকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার জব্দকৃত ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মানবিক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি আলোচনায় উৎসাহ দিতে পারে। তবে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া অস্ত্র রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বে নবম স্থানে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় বাজারে এর প্রভাব বাড়ছে।

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামাতে বন্দর, পাইপলাইন ও রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।