আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন এক মোড় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বহুল আলোচিত সমঝোতাকে বিশ্বনেতারা নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি—ইউরোপের প্রভাবশালী ৪ দেশ যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তারা ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত।
রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় নেতারা আরও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহযোগিতায় কার্যকর তদারকি অব্যাহত থাকবে।
আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মনে করেন, এই সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আরও নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্যের পথ উন্মুক্ত করতে পারে। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিলেও পরিস্থিতিকে এখনও সংবেদনশীল বলে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই শান্তি উদ্যোগ, সম্ভাব্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই ইতিবাচক গতি ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
