মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘আরাশ-ই কামাঙ্গির’ নামে একটি নতুন দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নতমানের চালকবিহীন আকাশযান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যন্ত কম রাডার প্রতিফলন ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক যুদ্ধবিমান শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান তাদের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে আরও গতিশীল, বিকেন্দ্রীভূত এবং কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাধারণত বড় ও স্থায়ী রাডার কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের সময় এসব স্থাপনা শত্রুপক্ষের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। কিন্তু ‘আরাশ-ই কামাঙ্গির’ তুলনামূলকভাবে ছোট, দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য এবং সহজে গোপন রাখা যায় এমন মোবাইল প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এটি দ্রুত মোতায়েন ও পুনঃমোতায়েন করা যায়, শত্রুর নজরদারি এড়াতে পারে এবং স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমায়।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে দীর্ঘপাল্লার নজরদারি ও আক্রমণাত্মক চালকবিহীন আকাশযান মোকাবিলার জন্য উপযোগী। একই সঙ্গে আধুনিক গোপন প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা এখনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ গতিশীলতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের ক্ষমতার কারণে এই ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরান গত এক দশক ধরে বিদেশি নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র আমদানির সীমাবদ্ধতার কারণে নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফল হিসেবে দীর্ঘপাল্লার ‘বাভার-৩৭৩’, মাঝারি পাল্লার ‘তৃতীয় খোরদাদ’ এবং ‘সাইয়্যাদ’ ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ‘আরাশ-ই কামাঙ্গির’ সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও বিকেন্দ্রীভূত ও টেকসই করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য ও আকাশ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
