প্রযুক্তিJun 16, 20264 min read

ব্যালিস্টিক মিসাইলসহ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পরীক্ষা চালালো ভারত ।

প্রযুক্তি ডেস্কপ্রযুক্তি|প্রযুক্তি

ভারত ১০ ও ১১ জুন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও নৌবাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতায় নতুন অগ্রগতি প্রদর্শিত হয়েছে।

শেয়ার করুন:
ব্যালিস্টিক মিসাইলসহ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পরীক্ষা চালালো ভারত ।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও ১০ ও ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেশটি বহুস্তরবিশিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝারি পাল্লার নৌবাহিনীর জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব সফল পরীক্ষা দেশের আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ ও ১১ জুন পরিচালিত ধারাবাহিক তিনটি উড্ডয়ন পরীক্ষায় দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন সেন্সর, অনুসরণ ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই তথ্য ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যকে দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতারও সফল প্রদর্শন করা হয়েছে। একই সময়ে ডিআরডিও প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার নৌবাহিনীর জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নাসম-এমআর-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নও সম্পন্ন করে। ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও নৌবহরকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে এবং পরীক্ষায় এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল পরীক্ষাগুলো ভারতের দীর্ঘদিনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি দেশটির আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিস্তারের প্রেক্ষাপটে ভারতের এই অগ্রগতি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আকাশ প্রতিরক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।