অর্থনীতিMay 24, 2026Newsroom

খেলাপি ঋণের বিস্ফোরণে গভীর সংকটে আইএফআইসি ব্যাংক, ‘জেড’ শ্রেণিতে অবনমনে বাড়ছে আর্থিক উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টাররিপোর্টার|অর্থনীতি

খেলাপি ঋণ ও লোকসান বেড়ে যাওয়ায় আইএফআইসি ব্যাংককে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়েছে শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ, যা ব্যাংক খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেয়ার করুন:
খেলাপি ঋণের বিস্ফোরণে গভীর সংকটে আইএফআইসি ব্যাংক, ‘জেড’ শ্রেণিতে অবনমনে বাড়ছে আর্থিক উদ্বেগ

দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে নতুন করে বড় উদ্বেগের নাম হয়ে উঠেছে আইএফআইসি ব্যাংক। সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন, শেয়ারবাজার তথ্য এবং ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে ব্যাংকটির ভয়াবহ আর্থিক দুর্বলতার চিত্র। দ্রুত বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ, বিপুল লোকসান, মূলধন সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে ব্যাংকটিকে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্তর ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধু একটি ব্যাংকের সংকট নয়; বরং দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বল তদারকি ও দীর্ঘদিনের অনিয়মেরও প্রতিফলন।

তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যেখানে আগে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে বর্তমানে তা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। ব্যাংকিং খাতে সাধারণভাবে কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পনের শতাংশ অতিক্রম করলে সেটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু আইএফআইসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার বহু গুণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হলেও তার যথাযথ তদারকি হয়নি। পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং নতুন পর্যবেক্ষক নিয়োগের পর পূর্বে নিয়মিত দেখানো বহু ঋণকে পুনরায় শ্রেণিবিন্যাস করে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক সংকট সামনে আসে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক হিসাবেও বড় ধরনের লোকসানের তথ্য উঠে এসেছে। শেয়ারপ্রতি আয় নেতিবাচক অবস্থায় চলে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে টানা দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ ব্যাংকটিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে অবনমন করেছে। ফলে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণ সুবিধা হারিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির ফল। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা পুরো আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ তদন্ত, কঠোর জবাবদিহি, দ্রুত সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আর্থিক শাসন নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

পতেঙ্গায় নতুন সক্ষমতা, বদলাতে পারে বাণিজ্যের গতি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ৩০ মিলিয়ন ডলারে ৪টি আধুনিক ক্রেন যুক্ত হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা ও বাণিজ্য কার্যক্রম বাড়াবে।

কোভিড উৎস বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

কোভিড–১৯ উৎস বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উহান গবেষণাগার ও সম্ভাব্য মার্কিন অর্থায়ন। অভিযোগগুলো জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত প্রশ্ন তুলছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপে

যুদ্ধ ও অবরোধের মধ্যে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট তীব্র হয়েছে; বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।

সীমান্তের কাছে নতুন সামরিক সমীকরণ?

ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রাহ্মোস-সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের স্যাটেলাইট তথ্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।