ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সৌদি পতাকাবাহী ৩টি সুপারট্যাঙ্কার প্রায় ৬,০০,০০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করে নিরাপদে অতিক্রম করেছে বলে জানা যায়। এই ঘটনাকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতার একটি প্রাথমিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত ছিল। সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধ শেষ করার পাশাপাশি প্রণালী খুলে দেওয়ার এবং ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়, যা বৈশ্বিক তেলবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২% কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে জাহাজ মালিকরা জানিয়েছেন, পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনো সময় লাগবে, কারণ নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, মাইন অপসারণ এবং পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এর ফলে কিছু জাহাজ তাদের অবস্থান গোপন না করে প্রকাশ্যে সম্প্রচার শুরু করেছে, যা পরিস্থিতির আংশিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মাঝেও লেবাননে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে, যেখানে দীর্ঘ সংঘাতে ইতিমধ্যে ১০ লক্ষের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নতুন সমঝোতা স্মারকে লেবাননে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা উল্লেখ থাকলেও, বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপরীত চিত্র দেখাচ্ছে, কারণ ইসরায়েলি বাহিনী বৃহস্পতিবারও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রাখে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নতুন হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, কফরতেবনিত ও জেবদিন অঞ্চলে হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে বৈরুতের আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে, যা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইসরায়েল দাবি করছে যে তারা নিরাপত্তাজনিত কারণে দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বাফার জোন হিসেবে ধরে রেখেছে এবং সেখানে তাদের সেনা অবস্থান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নতুন কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি করেছে। দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চললেও ইসরায়েল পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলেও ইসরায়েলের অবস্থান এই চুক্তির বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলতে পারে। ফলে একদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে গিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করলেও, অন্যদিকে লেবাননের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এখনো অনিশ্চিত করে রেখেছে।
