স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙর করা একটি প্রমোদতরীকে ঘিরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে এ পর্যন্ত অন্তত আটজন যাত্রী আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশটিরও বেশি দেশ নিজেদের নাগরিকদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। অধিকাংশ দেশই সম্ভাব্য আক্রান্তদের পৃথক পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য নজরদারিতে রেখেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো সীমিত হলেও আক্রান্ত জাহাজে থাকা যাত্রীদের অন্তত বিয়াল্লিশ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ হান্টাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পেতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া এক যাত্রীর শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যদিও তার মধ্যে এখনো উপসর্গ দেখা যায়নি। অন্যদিকে ফ্রান্সে ফিরে যাওয়া এক নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত হলে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং ফুসফুসে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও এটি সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না, তবুও সীমিত ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। একটি প্রমোদতরীতে শত শত মানুষের একসঙ্গে অবস্থান সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাত স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা সংবেদনশীল। বিশ্বায়নের যুগে একটি সংক্রমণ খুব দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। তাই সময়মতো শনাক্তকরণ, পৃথকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল একটি দেশের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থাই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার মূল উপায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং গুজব এড়িয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ও সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।
