বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেই 'ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার' এক নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক এবং দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফার নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল উৎসবের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলকে ঐক্য ও শান্তির মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও সমালোচকদের মতে, গাজার বাস্তব ভূরাজনৈতিক সংকট ও চলমান রক্তপাতকে উপেক্ষা করে এমন প্রতীকী ম্যাচ আয়োজন করা নিছক দায় এড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই টুর্নামেন্টে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও সবার নজর কেড়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ম্যাচের এই প্রস্তাবটি। ফিফা দাবি করছে যে, কিশোর ও তরুণ খেলোয়াড়দের মাঠে নামিয়ে তারা বিশ্ববাসীকে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দিতে চায়। তবে এই ধরনের প্রতীকী উদ্যোগের পেছনে গভীর রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে করমর্দন করানোর একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব চলমান যুদ্ধ ও মানবিক পরিস্থিতির কারণে সেই প্রহসনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ফলে, এখন অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের শিশুদের ব্যবহার করে ফিফার এই নতুন সমীকরণকে অনেকেই নীতিহীন প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
এই আয়োজনকে ঘিরে ফিফার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির এক পুরোনো অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী, ক্রীড়া বিশ্লেষক এবং ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলো জোরালো সওয়াল করছে যে, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর ফিফা যেভাবে দ্রুত রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে কেন সেই একই কঠোর নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে "কিক ইসরায়েল আউট অব ফিফা" বা ইসরায়েলকে ফিফা থেকে বহিষ্কারের আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করার পরও ফিফা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার অজুহাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। সমালোচকদের প্রশ্ন, যেখানে গাজায় হাজার হাজার শিশুর প্রাণহানি ঘটছে, সেখানে কিশোরদের একটি প্রতীকী ফুটবল ম্যাচ কীভাবে প্রকৃত সংকটের সমাধান করতে পারে? ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ম্যাচের সূচি ঘোষণা না করলেও, এই সংবেদনশীল প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আয়োজন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
