উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ডি–৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল পরামর্শ সভায় সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহজ ভ্রমণব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। জোটের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত সোহাইল মাহমুদ বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহজ ভিসা সুবিধা চালু হলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি দ্রুত এগিয়ে যাবে।
ডি–৮ জোটে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশর ও নাইজেরিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় একশ কোটির কাছাকাছি। ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ হলে তা শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতাই বাড়াবে না, বরং শিক্ষা, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করে মানুষের সহজ চলাচল, দ্রুত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর। তাই ভিসা জটিলতা কমানো এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা, স্বীকৃত ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত ও সহজ ভ্রমণব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্য নীতিমালা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সদস্য দেশগুলো মনে করছে, ব্যবসায়ীদের চলাচল সহজ হলে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ডি–৮ অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
১৯৯৭ সালে তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজমেত্তিন এরবাকানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ডি–৮ জোটের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংকটের সময়ে এই জোটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারলে সদস্য দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক বলয়ে পরিণত হতে পারবে।
পরিশেষে বলা যায়, ডি–৮ জোটের ভিসা সহজীকরণ উদ্যোগ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ঐক্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন বার্তা। যদি এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সদস্য দেশগুলোর সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন। সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার এই ধারা ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিকে আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
