যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে সালেহা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীকে সশরীরে না দেখেই মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আখিরুজ্জামান ছাড়পত্র প্রদান করেন। পরে ইসিজি রিপোর্টে হৃদরোগ নিশ্চিত হলেও ছাড়পত্র বহাল রাখা হয়।
জানানো হয়, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে বুকে ব্যাথা নিয়ে সালেহা বেগম হাসপাতাল ভর্তি হন। পরের দিন সকাল ৬টায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. আখিরুজ্জামান রোগীকে না দেখেই ছাড়পত্র ইস্যু করেন। স্বজনরা বারবার চিকিৎসা ও পরিদর্শনের অনুরোধ করলেও তিনি যাননি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পরবর্তী দিন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরাইয়া পারভীন রোগীর সার্বিক অবস্থা দেখে ইসিজি, আলট্রাসনো এবং ব্লাড টেস্টের ব্যবস্থা করেন। রিপোর্ট হাতে পাওয়া সত্ত্বেও রোগীকে প্রাথমিক ছাড়পত্র বহাল রাখা হয়। স্বজনদের জানানো হয়, পরের দিন হার্টের বিশেষজ্ঞ দেখবেন।
এরপর ১৪ জানুয়ারি রোগীকে পুনরায় হাসপাতাল নেওয়া হয়, যেখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. আবদুল কাদের রিপোর্ট দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে রোগী যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৮ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালেহা বেগম মারা যান।
মৃত রোগীর ছেলে মাসুম পারভেজ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসা সরাসরি তার মায়ের মৃত্যুর কারণ। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আহসানুল মিজান রুমী জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ডা. আখিরুজ্জামানকে শুধু সতর্কতার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার কর্মপদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাসুম পারভেজ বলেন, “ইসিজি রিপোর্টে হার্টের সমস্যা স্পষ্ট থাকলেও মা মারা যাওয়ার পরও যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেন ন্যায় বিচার দেন, সেটিই আমাদের মূল দাবি।”
