চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে পরিচালিত একটি নতুন পরিবেশ প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি করেছে। “সয়েল সিড” বা “মাটির বীজ” নামে পরিচিত এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় উর্বর মাটির স্তর তৈরি হতে কয়েক দশক থেকে শত বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে, সেটিকে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করা সম্ভব। এই গবেষণা পরিচালনা করছে চীনের বিজ্ঞান একাডেমির অধীন শাপোতৌ মরুভূমি গবেষণা ও পরীক্ষণ কেন্দ্র। প্রযুক্তিটির মূল উপাদান হলো পরীক্ষাগারে উৎপাদিত ও শুকনো দানার আকারে সংরক্ষিত জীবন্ত সায়ানোব্যাকটেরিয়া—পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন অণুজীব, যার বয়স প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর বলে ধারণা করা হয়।
এই জীবাণুগুলো মরুভূমির বালুর ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হলে অল্প বৃষ্টি, শিশির বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে একটি জীবন্ত মাটির আবরণ তৈরি করে। এই আবরণকে বলা হয় “জীবন্ত মাটির স্তর”। সক্রিয় অবস্থায় সায়ানোব্যাকটেরিয়া আঠালো শর্করা জাতীয় পদার্থ নিঃসরণ করে, যা বালুকণাকে পরস্পরের সঙ্গে আটকে দেয়। ফলে আলগা ও উড়ন্ত বালি ধীরে ধীরে শক্ত, স্থিতিশীল এবং উদ্ভিদ জন্মানোর উপযোগী স্তরে রূপ নেয়। একই সঙ্গে এই স্তর মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, পানি বাষ্পীভবন কমায়, বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে যুক্ত করে, কার্বন সংরক্ষণ করে এবং তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
চীনের নিংশিয়া অঞ্চলের শাপোতৌ এলাকায় এই প্রযুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ অঞ্চলটি একসময় ভয়াবহ বালুঝড় ও মরুকরণের কারণে পরিবহন, কৃষি ও বসতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল। পরীক্ষাগারে পরিচালিত বায়ুপ্রবাহ পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই জীবন্ত মাটির স্তর বালিক্ষয় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমাতে সক্ষম। পরিবেশগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, যেখানে এই স্তর সফলভাবে গড়ে উঠছে সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ঘাস, শ্যাওলা, পোকামাকড়, ছোট পাখি ও অন্যান্য প্রাণ ফিরে আসতে শুরু করছে। তবে গবেষকরা বলছেন, বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের আগে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব, পানির ব্যবহার এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
