আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলার ও সুইফট নেটওয়ার্কের দীর্ঘদিনের প্রভাবের বিকল্প হিসেবে নতুন এক ডিজিটাল আন্তঃসীমান্ত লেনদেন অবকাঠামো চালুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে চীন। দেশটি বহুপক্ষীয় ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘এমব্রিজ’-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমব্রিজ মূলত ব্লকচেইনভিত্তিক একটি আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে দ্রুত, কম ব্যয় এবং সরাসরি আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে এই উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে রয়েছে চীন, হংকং, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে মঙ্গোলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৯৫ শতাংশেরও বেশি লেনদেন ডিজিটাল ইউয়ান ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার সম্প্রসারণে চীন ইতোমধ্যে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন সুইফট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে এতে একাধিক মধ্যবর্তী ব্যাংকের অংশগ্রহণের কারণে সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়। এমব্রিজ সেই কাঠামোর বিকল্প হিসেবে তুলনামূলকভাবে প্রায় অর্ধেক ব্যয়ে কয়েক দিনের পরিবর্তে কয়েক সেকেন্ডে লেনদেন নিষ্পত্তির সক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ডলারের বৈশ্বিক অবস্থান সরাসরি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও এমব্রিজ সফলভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিকল্প অবকাঠামো গঠনের নতুন ধারা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো, নিজস্ব মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য শিগগিরই হংকংয়ে নতুন পরিচালন কাঠামো গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
